ঢাকা: সিন্ধু নদের পানি স্থায়ীভাবে আটকে রাখার ভারতীয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ইসলামাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দেন, যা দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শাহবাজ শরিফের কড়া বার্তা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তার বক্তব্যে বলেন, "আমি শত্রুদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমাদের পানির এক ফোঁটাও কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেব না। যদি আপনারা আমাদের পানি আটকে রাখার পরিকল্পনা করে থাকেন এবং এ সংক্রান্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে আপনাদের উচিত শিক্ষা দেব। এমন শিক্ষা দেব, যা কখনো ভুলবেন না।" তার এই কড়া বার্তা ভারতের প্রতি পাকিস্তানের কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।
সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আদালতের রায়
গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি বন্দুক হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, যার ফলে পাকিস্তানের কৃষি উৎপাদন গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ে। ভারত ওই সময় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদের ভারতীয় অংশে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানায়।
এরপর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে এবং গত ৮ আগস্ট আদালত রায় দেন। রায়ে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি সচল করা এবং ভারতকে চুক্তিতে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে আদালত বলেন, "ভারত যদি সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ বা এ জাতীয় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে চায়, তাহলে অবশ্যই চুক্তির শর্ত মেনে এবং চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সেটি নির্মাণ করতে হবে।" এই রায়ের পর পাকিস্তান তা স্বাগত জানালেও ভারত এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সেনাপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও এই ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত ৯ আগস্ট ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "আমরা বাঁধ নির্মাণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যখন শেষ হবে, ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মেরে সেটি ধ্বংস করে দেব। সিন্ধু নদ ভারতের পারিবারিক সম্পত্তি নয়, আর আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রেরও কোনো অভাব নেই।" সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষণ: সিন্ধু নদের পানি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের এই বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। আন্তর্জাতিক আদালতের সাম্প্রতিক রায় পাকিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভারতের নীরবতা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। দুই দেশের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের কড়া মন্তব্য দু'দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।
সূত্র: জিও নিউজ, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |